মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর জিয়া উদ্যান, শেরেবাংলা নগর, ঢাকায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর মাজার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহর থেকেই জিয়া উদ্যান এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। জাতীয় পতাকা হাতে, স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার বীরত্বগাঁথা অবদানের কথা স্মরণ করেন।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকালবেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া উদ্যান প্রাঙ্গণে পৌঁছালে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে স্বাগত জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুরো পরিবেশ ছিল শোক ও শ্রদ্ধায় আবেগঘন।
প্রথমে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানান। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। দোয়া পরিচালনা করেন একজন আলেম, যেখানে দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা কামনা করা হয়।
এরপর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। এসময় উপস্থিত অনেক নেতাকর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার ত্যাগ ও নেতৃত্ব দেশের মানুষের মাঝে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা যেন কখনো ব্যাহত না হয়, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মাজার জিয়ারত করেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতীয় চেতনা পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এদিনের এই আয়োজন নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জাগিয়ে তোলে, যা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয়ে অনুপ্রাণিত করবে।

0 মন্তব্যসমূহ